ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স করার নিয়ম ও সুবিধা

 ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স করার নিয়ম ও সুবিধা 

ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স হলো ভ্রমণের সময় দুর্ঘটনা, অসুস্থতা, লাগেজ হারানো বা ফ্লাইট বাতিলের মতো ঝুঁকি থেকে আর্থিক সুরক্ষা পাওয়ার একটি মাধ্যম।

আরো পড়ুন:

এটি করতে হলে প্রথমে নির্ভরযোগ্য কোনো বীমা কোম্পানি যেমন MetLife বা Prudential-এর ওয়েবসাইট বা অফিসে গিয়ে পলিসি নির্বাচন করতে হয়।

পাসপোর্ট, ভিসা ও ভ্রমণের তারিখ দিয়ে অনলাইনে বা সরাসরি আবেদন করা যায়।

প্রিমিয়াম পরিশোধের পর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কভারেজ কার্যকর হয়।

এর মাধ্যমে বিদেশে চিকিৎসা খরচ, জরুরি সহায়তা ও ট্রিপ ক্যান্সেলেশনের ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়।

তাই নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত ভ্রমণের জন্য ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স করার নিয়ম ও সুবিধা

(ভ্রমণ বীমা কেন জরুরি, কিভাবে করবেন, কী কী কভার করে, সম্পূর্ণ গাইড)

ভ্রমণ এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি, ব্যবসা ও পর্যটনের জন্য প্রয়োজনীয় একটি অংশ। বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স (Travel Insurance) অনেক দেশের জন্য বাধ্যতামূলক। ইউরোপের Schengen Area-তে ভিসা পেতে হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ কভারেজসহ ট্রাভেল ইন্সুরেন্স দেখাতে হয়। আবার United States, Canada বা Australia-এর মতো দেশে চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি—সেখানে বীমা ছাড়া ভ্রমণ করা ঝুঁকিপূর্ণ।

এই আর্টিকেলে আপনি জানতে পারবেন:

ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স কী

কেন দরকার

কিভাবে করবেন

কত টাকা খরচ

কী কী সুবিধা পাবেন

বাংলাদেশ থেকে কিভাবে আবেদন করবেন

ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স কী

ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স বা ভ্রমণ বীমা হলো এমন একটি আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, যা ভ্রমণের সময় দুর্ঘটনা, অসুস্থতা, ফ্লাইট বাতিল, লাগেজ হারানো, পাসপোর্ট হারানো ইত্যাদি ঝুঁকি থেকে আপনাকে আর্থিক নিরাপত্তা দেয়।

অর্থাৎ, আপনি যদি বিদেশে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন, দুর্ঘটনায় পড়েন, বা আপনার ব্যাগ হারিয়ে যায়—তাহলে বীমা কোম্পানি আপনার নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত খরচ বহন করবে।

ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স কেন গুরুত্বপূর্ণ

১. বিদেশে চিকিৎসা খরচ অত্যন্ত বেশি

ধরুন আপনি ইউরোপ বা আমেরিকায় গিয়ে অসুস্থ হলেন। একটি সাধারণ চিকিৎসা পরীক্ষার বিলও কয়েকশো ডলার হতে পারে। গুরুতর হলে হাজার হাজার ডলার খরচ হতে পারে। বীমা থাকলে এই ব্যয় কোম্পানি বহন করে।

২. ভিসার জন্য বাধ্যতামূলক

বিশেষ করে Schengen Area ভিসার জন্য কমপক্ষে ৩০,০০০ ইউরো কভারেজের ট্রাভেল ইন্সুরেন্স বাধ্যতামূলক।

৩. ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফ্লাইট বাতিল হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়।

৪. লাগেজ বা পাসপোর্ট হারানো

বিদেশে ব্যাগ বা পাসপোর্ট হারানো খুব বড় সমস্যা। ইন্সুরেন্স থাকলে আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়।

৫. জরুরি দেশে ফেরত পাঠানো

গুরুতর অসুস্থ হলে মেডিকেল ইভাকুয়েশন বা ডেড বডি রিপ্যাট্রিয়েশন খরচও কভার হতে পারে।

ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্সের প্রধান সুবিধাসমূহ

১. মেডিকেল কভারেজ

হাসপাতাল বিল

ডাক্তার ফি

ওষুধের খরচ

জরুরি অপারেশন

২. এক্সিডেন্টাল ডেথ ও ডিসএবিলিটি কভার

দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতায় ক্ষতিপূরণ।

৩. লাগেজ লস কভার

চেক-ইন ব্যাগ হারালে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান।

৪. ট্রিপ ক্যানসেলেশন কভার

জরুরি কারণে ভ্রমণ বাতিল হলে টিকিট ও হোটেল খরচ ফেরত।

৫. পার্সোনাল লায়াবিলিটি কভার

আপনার কারণে অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আইনি খরচ কভার।

ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স করার নিয়ম (ধাপে ধাপে গাইড)

ধাপ ১: ভ্রমণের দেশ নির্ধারণ করুন

আপনি কোথায় যাচ্ছেন? ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য নাকি এশিয়া? দেশের উপর ভিত্তি করে কভারেজ নির্ধারণ হবে।

ধাপ ২: ভ্রমণের সময়সীমা ঠিক করুন

কত দিনের জন্য ভ্রমণ করছেন? ৭ দিন, ১৫ দিন, ১ মাস, ৬ মাস?

ধাপ ৩: কভারেজ পরিমাণ নির্বাচন

যেমন:

৩০,০০০ ইউরো

৫০,০০০ ডলার

১,০০,০০০ ডলার

ধাপ ৪: বিশ্বস্ত বীমা কোম্পানি নির্বাচন

বাংলাদেশে জনপ্রিয় বীমা কোম্পানি:

Green Delta Insurance Company Limited

Pragati Insurance Limited

Reliance Insurance Limited

ধাপ ৫: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন

পাসপোর্ট কপি

ভিসা কপি

টিকিট কপি

আবেদন ফর্ম

ধাপ ৬: প্রিমিয়াম পরিশোধ

কভারেজ ও সময় অনুযায়ী প্রিমিয়াম নির্ধারিত হয়।

ধাপ ৭: ইন্সুরেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ

ভিসা আবেদনের সময় জমা দিন।

ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স করতে কত টাকা লাগে?

খরচ নির্ভর করে:

দেশ

সময়কাল

বয়স

কভারেজ সীমা

আনুমানিক খরচ (বাংলাদেশি টাকায়)

সময়কাল

কভারেজ

আনুমানিক খরচ

৭ দিন

৩০,০০০ ইউরো

৮০০ – ১২০০ টাকা

১৫ দিন

৫০,০০০ ডলার

১২০০ – ২০০০ টাকা

১ মাস

১,০০,০০০ ডলার

২৫০০ – ৪০০০ টাকা

অনলাইনে ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স করার নিয়ম

বর্তমানে অনেক কোম্পানি অনলাইনে আবেদন সুবিধা দিচ্ছে।

প্রক্রিয়া:

১. কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান

২. ট্রাভেল ইন্সুরেন্স সেকশন নির্বাচন

৩. তথ্য পূরণ

৪. অনলাইন পেমেন্ট

৫. ইমেইলে সার্টিফিকেট সংগ্রহ

ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স করার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

 প্রি-এক্সিস্টিং রোগ কভার করে কি না

 কোভিড বা মহামারী কভার আছে কি না

 অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস কভার আছে কি না

 ক্লেইম প্রসেস কত সহজ

ক্লেইম করার নিয়ম

১. জরুরি অবস্থায় কোম্পানির হটলাইনে যোগাযোগ

২. চিকিৎসার রশিদ সংগ্রহ

৩. ক্লেইম ফর্ম পূরণ

৪. প্রয়োজনীয় কাগজ জমা

৫. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত

কারা ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স করবেন?

স্টুডেন্ট

ট্যুরিস্ট

বিজনেস ট্রাভেলার

ওমরাহ/হজ যাত্রী

চাকরিপ্রার্থী

ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স না করলে কী ঝুঁকি

 চিকিৎসা খরচ নিজেকে বহন করতে হবে

 ভিসা বাতিল হতে পারে

 বড় আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা

 আইনি ঝামেলা

বিশেষ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: দেশীয় ভ্রমণে কি ট্রাভেল ইন্সুরেন্স দরকার?

উত্তর: বাধ্যতামূলক নয়, তবে বড় ঝুঁকি থাকলে করা ভালো।

প্রশ্ন: বয়স্কদের জন্য প্রিমিয়াম বেশি কেন?

উত্তর: স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি হওয়ায়।

প্রশ্ন: একাধিক দেশে গেলে কি আলাদা ইন্সুরেন্স লাগবে।

উত্তর: মাল্টি-কান্ট্রি কভার নেওয়া যায়।

আমাদের চূড়ান্ত কথা: ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স করার নিয়ম ও সুবিধা 

বর্তমান যুগে ট্রাভেলিং ইন্সুরেন্স বিলাসিতা নয় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা। বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এটি আপনাকে আর্থিক ও মানসিক সুরক্ষা দেয়। অল্প কিছু টাকা খরচ করে বড় ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url