রোজ খেলে মধু আদা অরুচি আর থাকে না দাদা
রোজ খেলে মধু আদা অরুচি আর থাকে না দাদা
এটি পাকস্থলীর গ্যাস ও বমিভাব দূর করতে সাহায্য করে। মধু শক্তি দেয়, আর আদা ক্ষুধা বাড়াতে কার্যকর। নিয়মিত খেলে শরীর হালকা ও সতেজ থাকে।
রোজ মধু ও আদা খেলে অরুচি আর থাকে না – বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও সম্পূর্ণ গাইড
বর্তমান সময়ে অরুচি বা খাবারে অনীহা একটি খুব সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার, দুশ্চিন্তা, বদহজম, লিভারের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক,সবকিছুই অরুচির জন্য দায়ী।
আরো পড়ুনঃ
কিন্তু প্রকৃতির একটি অসাধারণ যুগল আছে যা এই সমস্যার চমৎকার সমাধান, মধু ও আদা। রোজ সঠিকভাবে মধু ও আদা খেলে ধীরে ধীরে অরুচি দূর হয়ে স্বাভাবিক ক্ষুধা ফিরে আসে।
অরুচি কী, অরুচির সাধারণ লক্ষণ
অরুচি মানে হলো খাবারে, চ্ছা না থাকা। যখন খাবার দেখলে খেতে মন চায় না, মুখে বিস্বাদ লাগে বা অল্প খেলেই পেট ভরে যায়, তখন তাকে অরুচি বলা হয়। খাবার দেখলে বমি ভাব। মুখে তিতা বা বিস্বাদ, পেট ফাঁপা, ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা, গ্যাস্ট্রিক ও এসিডিটি
অরুচির প্রধান কারণ
দুর্বল হজমশক্তি, গ্যাস্ট্রিক ও এসিডিটি, লিভারের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত চা-কফি, দুশ্চিন্তা ও স্ট্রেস, অপুষ্টি, দীর্ঘদিন ওষুধ খাওয়া। অরুচির প্রধান কারণগুলো হলো, ১) অনিয়মিত খাবার খাওয়া ও অতিরিক্ত ভাজা-মশলাযুক্ত খাবার। ২) গ্যাস্ট্রিক, বদহজম ও পেটের সমস্যা। ৩) মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও ঘুমের অভাব। ৪) লিভার বা হজমের এনজাইমের দুর্বলতা। ৫) ধূমপান, তামাক ও অতিরিক্ত চা-কফি
আদা কীভাবে অরুচি দূর করে
আদা একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক হজম বৃদ্ধিকারী। আদা হজম এনজাইম সক্রিয় করে ক্ষুধা বাড়ায়। এটি পাকস্থলীর গ্যাস ও অস্বস্তি কমিয়ে অরুচি দূর করে।
আদার ঝাঁঝালো উপাদান মুখে লালা নিঃসরণ বাড়ায়, ফলে খাবারে আগ্রহ আসে। এটি বমিভাব ও পেট ভারীভাব কমাতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত আদা খেলে স্বাভাবিকভাবে রুচি ফিরে আসে।
আদার যতসব গুণাগুণ
হজম এনজাইম বাড়ায়, পাকস্থলীর গ্যাস কমায়, এসিডিটি দূর করে, লিভার পরিষ্কার রাখে। ক্ষুধা বাড়ায়, বমি ভাব কমায়। আদার মধ্যে থাকা জিঞ্জেরল ও শোগাওল নামক উপাদান পাকস্থলীর কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
মধু কীভাবে অরুচি দূর করে
মধু হলো প্রকৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী টনিক। মধুর উপকারিতা, হজম শক্তিশালী করে, লিভার পরিষ্কার, রাখে। শরীরকে ডিটক্স করে, পেটের জ্বালা কমায়, মুখের তিতা ভাব দূর করে, ক্ষুধা বাড়ায়, মধু পাকস্থলীর ভেতরে একটি প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্টের মতো কাজ করে। মধু + আদা = অরুচির মহৌষধ। যখন মধু ও আদা একসাথে খাওয়া হয় তখন। আদা হজম শক্তিশালী করে। মধু পাকস্থলীকে শান্ত করে। লিভার পরিষ্কার হয়। ক্ষুধা স্বাভাবিক হয়। এই যুগল প্রাকৃতিকভাবে অরুচি দূর করে। কীভাবে খাবেন মধু ও আদা। রেসিপি ১ঃ ১ চা চামচ আদার রস, ১ চা চামচ খাঁটি মধু, সকালে খালি পেটে মিশিয়ে খান। রেসিপি ২ঃ , ধা চা চামচ আদা বাটা, ১ চামচ মধু, খাবারের ২০ মিনিট আগে খান।
আদা-মধু কতদিন খেতে হবে
অরুচি দূর হতে সাধারণত ৭–২১ দিন নিয়মিত খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। কোন সময় খাওয়া সবচেয়ে ভালো। সময়, উপকার, সকাল খালি পেটে, হজম শক্তিশালী, খাবারের আগে, ক্ষুধা বাড়ায়, বিকালে। পেট ফাঁপা কমায়, কারা বেশি উপকার পাবে। যাদের ক্ষুধা নেই, গ্যাস্ট্রিক রোগী, লিভার দুর্বল, বয়স্ক মানুষ, শিশুদের অরুচি, দীর্ঘ অসুস্থতার পর দুর্বলতা।
আদা-মধু শিশুদের ক্ষেত্রে
৫ বছরের বেশি শিশুদের আধা চামচ মধু + কয়েক ফোঁটা আদার রস দিলে অরুচি কমে। ১) এক চা–চামচ মধুর সাথে অল্প পরিমাণ আদার রস মিশিয়ে নিন। ২) ১ বছরের বেশি বয়সী শিশুকে এই মিশ্রণটি দিন। ৩) দিনে একবার, সকালে বা রাতে খাওয়ানো ভালো। ৪) ঠান্ডা, কাশি বা অরুচিতে এটি বেশ উপকারী। ৫) অতিরিক্ত না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াবেন।
অরুচি ছাড়া আর কী উপকার করে
গ্যাস দূর হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে, মুখের দুর্গন্ধ কমে, শরীর শক্তিশালী হয়, ইমিউনিটি বাড়ে। ওজন স্বাভাবিক হয়। আদা–মধু অরুচি দূর করার পাশাপাশি হজম শক্তি বাড়ায় ও গ্যাস কমায়। এটি সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে।
আরো পড়ুনঃ
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সংক্রমণ ঠেকাতে সহায়ক। রক্ত সঞ্চালন ভালো করে ক্লান্তি দূর করে। নিয়মিত খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ ও শক্তি বৃদ্ধিতেও উপকার।
আদা- মধু কখন খাবেন না
অতিরিক্ত জ্বর, পেট আলসার, গর্ভাবস্থা (ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া)। ১ বছরের কম বয়সী শিশু। আদা–মধু এই অবস্থায় খাবেন না, ১) খালি পেটে গ্যাস্ট্রিক বা আলসার থাকলে।
২) জ্বর বা শরীর খুব গরম লাগলে। ৩) উচ্চ রক্তচাপ খুব বেড়ে গেলে। ৪) গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া। ৫) রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে।
আমাদের চূড়ান্ত কথা: রোজ খেলে মধু আদা অরুচি আর থাকে না দাদা
রোজ মধু ও আদা খাওয়া হলো অরুচির জন্য একেবারে প্রাকৃতিক ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা। যারা দীর্ঘদিন ক্ষুধামন্দায় ভুগছেন তারা মাত্র কয়েকদিনেই পরিবর্তন অনুভব করবেন।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url