সরকারি চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করা যায় কি
সরকারি চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করা যায় কি
নিচে আপনার চাওয়া বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্টিকেল দেওয়া হলো।
সরকারি চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করা যায় কি
আইন, সুযোগ, ঝুঁকি ও নিরাপদ উপায় – বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ গাইড
বর্তমান সময়ে শুধু সরকারি বেতনের উপর নির্ভর করে পরিবারের খরচ, ভবিষ্যৎ সঞ্চয় ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই অনেক সরকারি চাকরিজীবীর মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়,
“সরকারি চাকরির পাশাপাশি কি ব্যবসা করা যায়”
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে আমাদের জানতে হবে—
বাংলাদেশ সরকারের আইন কী বলে
কোন ব্যবসা বৈধ
কোনটা অবৈধ
কিভাবে করলে চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে না
এই আর্টিকেলে আমরা সবকিছু পরিষ্কারভাবে জানবো।
বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য আইন
বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও কাজকর্ম নিয়ন্ত্রিত হয়—
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯
এই আইনের ৪, ৫ ও ২৫ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।
কোনো সরকারি কর্মচারী সরাসরি ব্যবসা, বাণিজ্য বা লাভজনক কাজে যুক্ত হতে পারবেন না—সরকারি অনুমতি ছাড়া।
সরকারি চাকরির পাশাপাশি সরাসরি ব্যবসা করলে কী হয়
যদি কেউ অনুমতি ছাড়া ব্যবসা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে হতে পারে।
শাস্তি, ফলাফল, বিভাগীয় মামলা,
চাকরি স্থগিত
বেতন কাটা
আর্থিক ক্ষতি
পদাবনতি
ক্যারিয়ার ক্ষতি
চাকরি বাতিল
সম্পূর্ণ চাকরি শেষ
অনেক কর্মকর্তা এমন কারণে চাকরি হারিয়েছেন।
তাহলে কি কোনোভাবেই ব্যবসা করা যাবে না?
না।
আইন কিছু বৈধ পথ খুলে দিয়েছে।
সরকারি কর্মচারী ব্যবসা করতে পারবেন যদি—
শর্ত
তিনি নিজে ব্যবসা পরিচালনা না করেন
চাকরির সময় ব্যবহার না করেন
সরকারি পদ ব্যবহার করে সুবিধা না নেন
সরকার থেকে লিখিত অনুমতি নেন
বৈধ ব্যবসার ধরন (যেগুলো করা যায়)
১ পারিবারিক ব্যবসায় বিনিয়োগ
আপনার বাবা, স্ত্রী, ভাই বা আত্মীয় যদি ব্যবসা করেন, আপনি সেখানে,
মূলধন দিতে পারেন
লভ্যাংশ নিতে পারেন
কিন্তু পরিচালনা করবেন না
২️ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ
স্টক মার্কেট ব্যবসা নয়, এটি বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীরা—
শেয়ার কিনতে পারবেন
ডিভিডেন্ড পেতে পারবেন
IPO তে অংশ নিতে পারবেন
এটি সম্পূর্ণ বৈধ।
৩️ অনলাইন বিজনেস (প্যাসিভ ইনকাম)
যেমন,
ব্লগ
ইউটিউব
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
অ্যাপ ইনকাম
ই-বুক বিক্রি
যদি এগুলো চাকরির সময় না করেন এবং আপনার সরকারি পরিচয় ব্যবহার না করেন, তবে এগুলো অনুমোদিত।
৪️ ই-কমার্সে বিনিয়োগ
আপনি পারেন—
পণ্য কিনে কাউকে দিয়ে বিক্রি করাতে
ওয়েবসাইট বানাতে
মুনাফা নিতে
কিন্তু নিজে গ্রাহক ডিল করা, পণ্য ডেলিভারি করা নিষিদ্ধ।
যেসব ব্যবসা করলে চাকরি যাবে
এই কাজগুলো করলে ১০০% অপরাধ হবে—
দোকান চালানো
রেস্টুরেন্ট পরিচালনা
ডেলিভারি ব্যবসা
ট্রেডিং ব্যবসা
ফেসবুক পেজে পণ্য বিক্রি
ড্রপশিপিং নিজের নামে
সরকার থেকে অনুমতি নেওয়ার পদ্ধতি
আপনি চাইলে অফিসিয়ালি অনুমতি নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন।
ধাপসমূহ
আপনার অফিস প্রধান বরাবর আবেদন
ব্যবসার ধরন উল্লেখ
আয়ের উৎস লিখুন
নিজের জড়িত না থাকার অঙ্গীকার
বিভাগীয় অনুমোদন
অনুমতি পেলে আপনি আইনের ভিতরে থাকবেন।
সরকারি চাকরির পাশাপাশি আয় বাড়ানোর সেরা ৭ উপায়
উপায়
বৈধ?
শেয়ার বাজার
ব্লগ/ইউটিউব
ভাড়া বাড়ি
জমি বিনিয়োগ
মিউচুয়াল ফান্ড
ফ্যামিলি বিজনেসে বিনিয়োগ
ডিজিটাল প্রোডাক্ট
সবচেয়ে বড় ভুল যেটা মানুষ করে
অনেকে মনে করে—
“আমি তো অফিসের পরে করছি, তাই বৈধ।”
ভুল।
আইন বলে— আপনি সরকারি কর্মচারী হলে ২৪ ঘণ্টাই আপনি সরকারি কর্মচারী।
বাস্তব উদাহরণ
অনেক সরকারি কর্মকর্তা ফেসবুক পেজ, ই-কমার্স, রিয়েল এস্টেট ব্রোকারেজে জড়িয়ে—
চাকরি হারিয়েছেন
মামলা খেয়েছেন
পেনশন বন্ধ হয়েছে
সব কারণ
আইন না জানা ও লোভ।
স্মার্ট সরকারি চাকরিজীবীরা কী করেন?
তারা—
নিজের নামে কিছু চালান না
বিনিয়োগ করেন
প্যাসিভ ইনকাম তৈরি করেন
অনুমতি নিয়ে কাজ করেন
আমাদের চূড়ান্ত কথা:
সরকারি চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করা যায়, কিন্তু সরাসরি নয়।
আপনি যদি
আইন মেনে
বিনিয়োগ ভিত্তিক
প্যাসিভ ইনকাম ভিত্তিক
অনুমতি নিয়ে
চলতে পারেন, তাহলে আপনি
চাকরিও রাখবেন
আয়ও বাড়াবেন
ভবিষ্যৎও নিরাপদ করবেন
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url