যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সহজ নিয়ম এবং কত টাকা লাগে

 যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সহজ নিয়ম এবং কত টাকা লাগে

আপনাদের জন্য  নীচে “যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সহজ নিয়ম এবং কত টাকা লাগে” বিষয়ের উপর একটি  বিস্তারিত ও তথ্যসমৃদ্ধ আর্টিকেল দেওয়া হলো। যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ভিসা ফি প্রায় ১৮৫ ডলার লাগে (পর্যটন/স্টুডেন্ট ভিসা)। এছাড়াও বিমান ভাড়া মৌসুমভেদে ৮০,০০০–১,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও খরচ মিলিয়ে মোট প্রস্তুতিতে ২–৫ লাখ টাকা দরকার হতে পারে। তবে খরচ আপনার ভ্রমণের ধরন ও ব্যক্তিগত পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সহজ নিয়ম এবং কত টাকা লাগে

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সহজ নিয়ম এবং কত টাকা লাগে।

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জনপ্রিয় ৬টি সহজ পথ
আবেদন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে
ট্যুরিস্ট ভিসা  সহজে আমেরিকা দেখার পথ
ওয়ার্ক ভিসা  চাকরির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া
গ্রীন কার্ড লটারি  যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সবচেয়ে কম খরচের পথ
বিনিয়োগকারী ভিসা দ্রুত গ্রিন কার্ড
ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ ভিসা
ভিসার জন্য  বেধ পাসপোর্ট
আমাদের শেষ মন্তব্যঃ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সহজ নিয়ম এবং কত টাকা লাগে

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সহজ নিয়ম এবং কত টাকা লাগে 

বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত, শক্তিশালী এবং সুযোগসমৃদ্ধ দেশ যুক্তরাষ্ট্র (USA)। উচ্চমানের শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসা, ভালো চাকরির সুযোগ, ব্যবসা, গবেষণা এবং উন্নত জীবনমানের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সহজ নিয়ম কী? এবং এখনকার সময়ে কত টাকা লাগে।

আরো পড়ুনঃ

এই আর্টিকেলে আমরা যুক্তরাষ্ট্র যাবার বিভিন্ন অপরিহার্য ধাপ, ভিসার ধরন, আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা, কাগজপত্র, খরচ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাজেট তুলে ধরেছি।

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জনপ্রিয় ৬টি সহজ পথ

যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি “সহজ” কোনো পথ নেই, কিন্তু নিচের ৬টি পথ তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য, নিরাপদ এবং সফলঃ  স্টুডেন্ট ভিসা (F-1 Visa),  ট্যুরিস্ট ভিসা (B1/B2 Visa),  ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, J-1 ইত্যাদি),  গ্রীন কার্ড লটারি (DV Lottery),  বিনিয়োগকারী ভিসা (EB-5),  ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ ভিসা (Family Based Visa)। এগুলো মধ্যে বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে সহজ হচ্ছেঃ  স্টুডেন্ট ভিসা,  গ্রীন কার্ড লটারি,  ট্যুরিস্ট ভিসা। 

১. স্টুডেন্ট ভিসা (F-1 VISA): যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় পথ।  কেন সহজঃ  মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যাপকভাবে গ্রহণ করে।  ভর্তি পাওয়া তুলনামূলক সহজ।  ভিসা সাক্ষাৎকারে একাডেমিক যোগ্যতা + আর্থিক কাগজপত্র দেখাতে হয়। কি কি  যোগ্যতা লাগেঃ এইচএসসি/ডিগ্রি/অনার্স/মাস্টার্সের রেজাল্ট, IELTS/TOEFL (সাধারণত প্রয়োজন হয়)। টিউশন ফি + থাকার খরচ দেখানোর মতো অর্থ থাকতে হবে। SEVP অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে I-20 ফর্ম। 

আবেদন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে

বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, অ্যাপ্লিকেশন জমা (ফি $50–$100), I-20 ফরম সংগ্রহ, SEVIS ফি ($350) পরিশোধ। DS-160 ফর্ম পূরণ, ভিসা ফি ($185) জমা, এম্বাসি ইন্টারভিউ। ভিসা অনুমোদন হলে ফ্লাইট বুকিং।

যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে

মোট খরচ (বাংলাদেশ থেকে)। বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাপ্লিকেশন ফি- 6,000–12,000, IELTS/TOEFL ফি, 20,000–30,000, SEVIS ফি, প্রায় 40,000, ভিসা ফি, 22,000, ব্যাংক স্টেটমেন্ট (১ বছরের খরচ দেখাতে হবে)। ২০–৪০ লক্ষ টাকা। 

টিউশন ফি (বার্ষিক)। ৮–৩০ লক্ষ টাকা (বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে)। ফ্লাইট, ১–১.৫ লক্ষ- অন্যান্য খরচ। ৫০,০০০-এর মতো। মোট খরচ: প্রায় ৩০ লক্ষ – ৬০ লক্ষ টাকা। (বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।)

 ট্যুরিস্ট ভিসা  সহজে আমেরিকা দেখার পথ

আপনি যদি শুধু ভ্রমণ, ব্যবসায়িক মিটিং, কনফারেন্স, আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা বা চিকিৎসা উদ্দেশ্যে যেতে চান,  ট্যুরিস্ট ভিসা সবচেয়ে সহজ। যা যা লাগেঃ  যোগ্যতা, বৈধ পাসপোর্ট, স্থায়ী আয়ের উৎস (চাকরি/ব্যবসা), ব্যাংক স্টেটমেন্ট (৬ মাস), ট্রাভেল হিস্ট্রি থাকলে ভালো, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ শেষে বাংলাদেশে ফিরে আসবেন, এই প্রমাণ দেখাতে হবে।  

আবেদন প্রক্রিয়াঃ DS-160 ফর্ম পূরণ, ভিসা ফি ($185), অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং, ভিসা সাক্ষাৎকার,  ট্যুরিস্ট ভিসা পেতে কত টাকা লাগে,  ব্যয়, পরিমাণ (BDT)। ভিসা ফি- ২২,০০০, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ৫–১৫ লক্ষ টাকা (ভ্রমণের উদ্দেশ্যে)। হোটেল + খাবার + ট্রাভেল প্ল্যান, ১–৩ লক্ষ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ দিনের খরচ। ১–২ লক্ষ, ফ্লাইট, ১–১.৫ লক্ষ,  মোট খরচ: প্রায় ৪–৮ লক্ষ টাকা। 

 ওয়ার্ক ভিসা  চাকরির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পেতে হলে সাধারণত কোম্পানি আপনাকে স্পন্সর করতে হবে। জনপ্রিয় কাজের ভিসা।  H-1B: দক্ষ কর্মী (ইঞ্জিনিয়ার, আইটি, ডাক্তার, শিক্ষক)। H-2B: মৌসুমি শ্রমিক। J-1: ইন্টার্ন/ট্রেইনি,  যোগ্যতা, ডিগ্রি/স্কিল, কোম্পানির অফার লেটার। ইংরেজি দক্ষতা, অভিজ্ঞতা (H-1B এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ)। 

পরিমাণ- DS-160 ভিসা ফি- ২২,০০০ টাকা, কোম্পানির দেয়া স্পন্সরশিপ প্রসেসিং, কোম্পানিই দেয়, ফ্লাইট, ১–১.৫ লক্ষ, অন্যান্য খরচ, ৫০,০০০,  মোট খরচ: প্রায় ২–৩ লক্ষ টাকা (যদি কোম্পানি স্পন্সর করে)।

 গ্রীন কার্ড লটারি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সবচেয়ে কম খরচের পথ

DV লটারি বাংলাদেশ বর্তমানে অযোগ্য, তাই বাংলাদেশিরা সরাসরি DV প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারে না।তবে পিতা/মাতা/স্বামী/স্ত্রী যদি DV লটারিতে নির্বাচিত কোনো দেশের নাগরিক হন, তখন আবেদন করা যায়। খরচ, লটারিতে আবেদন: বিনামূল্যে, ভিসা ফি: $330, মেডিকেল: ২৫,০০০–৩০,000 টাকা। ফ্লাইট: ১–১.৫ লক্ষ।  মোট খরচ: ২–৩ লক্ষ টাকা। 

 বিনিয়োগকারী ভিসা  দ্রুত গ্রিন কার্ড

আপনি যদি বাংলাদেশে উচ্চ সম্পদের মালিক হন, এটি সবচেয়ে দ্রুত পথ। যোগ্যতা, যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত $800,000 (প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি) বিনিয়োগ। ১০ জন আমেরিকানকে কর্মসংস্থান তৈরি করা।  মোট খরচ। বিনিয়োগ: ১০–১২ কোটি টাকা। আইনজীবী ফি: ১৫–২০ লক্ষ। প্রসেসিং ফি: ৫–১০ লক্ষ।  মোট খরচ: প্রায় ১১–১৩ কোটি টাকা

 ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ ভিসা

যদি আপনার স্বামী/স্ত্রী/বাবা/মা বা ভাই/বোন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন, তারা আপনাকে স্পন্সর করতে পারবেন।  কে কাকে স্পন্সর করতে পারে, U.S. Citizen spouse → husband/wife, U.S. Citizen parents → unmarried children, U.S. Citizen siblings → brothers/sisters,  খরচ, ব্যয়, পরিমাণ, আবেদন ফি- ৫০,০০০–৭০,০০০ টাকা, ভিসা ফি- ৩০,০০০।

মেডিকেল, ২৫,০০০, ফ্লাইট, ১–১.৫ লক্ষ,  মোট খরচ: ২–৩ লক্ষ টাকা।  যুক্তরাষ্ট্র ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ কাগজপত্র। ভিসার ধরন ভেদে কাগজপত্র কিছুটা পরিবর্তিত হয়, তবে সাধারণ চাহিদা হলো।

ভিসার জন্য  বেধ পাসপোর্ট

 বৈধ পাসপোর্ট, DS-160 কনফার্মেশন পেজ,ছবি (২×২ ইঞ্চি), ব্যাংক স্টেটমেন্ট,আয়ের প্রমাণ, চাকরির প্রমাণপত্র / ব্যবসায়িক কাগজপত্রশিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স (কিছু ভিসায়)।  মেডিকেল রিপোর্ট (ইমিগ্র্যান্ট ভিসায়)। যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ফ্লাইট খরচ (ঢাকা → নিউইয়র্ক/লস অ্যাঞ্জেলেস)। ইকোনমি ক্লাস: ১,০০,০০০ – ১,৫০,০০০ টাকা, পিক সিজনে: ১,৬০,০০০ – ২,০০,০০০ টাকা,  যুক্তরাষ্ট্র ভিসা ইন্টারভিউতে জিজ্ঞাসা করা সাধারণ প্রশ্ন, কেন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান।

আরো পড়ুনঃ

 কতদিন থাকবেন, কে খরচ বহন করবে, আপনার উদ্দেশ্য কি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা, আপনার চাকরি/ব্যবসা/পড়াশোনার বিবরণ। ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখান। পূর্বে বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আছে কিনা।  যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে যেসব ভুল করলে ভিসা নাও পেতে পারেন।  মিথ্যা তথ্য দেওয়া,  ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট,  অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ উত্তর, অপ্রস্তুত সাক্ষাৎকার, ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরার প্রমাণ না দেখাতে পারা।  অতিরিক্ত ইমিগ্রেশন উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত। 

 যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ কোনটি, বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে কম ঝামেলায় যাওয়া যায়, স্টুডেন্ট ভিসায় (F-1), কারণ,  ভর্তি পাওয়া সহজ, আর্থিক প্রমাণ থাকলে ভিসা অনুমোদনও বেশি হয়। এরপর,  ট্যুরিস্ট ভিসা (B1/B2),  ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ ভিসা,  মোট কত টাকা লাগবে? (সারসংক্ষেপ)। ভিসার ধরন, মোট খরচ (BDT), স্টুডেন্ট ভিসা, ৩০–৬০ লক্ষ, ট্যুরিস্ট ভিসা- ৪–৮ লক্ষ। ওয়ার্ক ভিসা- ২–৩ লক্ষ, DV লটারি-২–৩ লক্ষ, ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ- ২–৩ লক্ষ, EB-5 বিনিয়োগ ভিসা, ১১–১৩ কোটি।

 আমাদের শেষ মন্তব্যঃ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সহজ নিয়ম এবং কত টাকা লাগে

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথ অনেক, কিন্তু প্রতিটি পথের নিয়ম, প্রস্তুতি এবং খরচ ভিন্ন। আপনি যে ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তার জন্য যথাযথ কাগজপত্র, আর্থিক প্রমাণ এবং সঠিক উদ্দেশ্য থাকা জরুরি।

যদি আপনি ভালোভাবে পরিকল্পনা করেন এবং সঠিকভাবে আবেদন করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া কঠিন নয়। যেকোনো ধরনের প্রতারণামূলক এজেন্ট বা “সহজে আমেরিকা পাঠাই” ধরনের অফার থেকে দূরে থাকুন, এগুলোর ৯০% ভুয়া।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url