লাল আটা নাকি সাদা আটা কোনটা খাওয়া জন্য ভালো
লাল আটা নাকি সাদা আটা কোনটা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
নীচে একটি সম্পূর্ণ বিস্তারিত ও গবেষণাভিত্তিক আর্টিকেল দেওয়া হলোঃ “লাল আটা নাকি সাদা আটাস্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো। লাল আটা নাকি সাদা আটা, স্বাস্থ্যের জন্য কোনটা ভালো। লাল আটায় থাকে বেশি ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল, যা হজম ভালো করে এবং পেট ভরতি রাখে।
সাদা আটা বেশি প্রসেসড হওয়ায় এতে পুষ্টিগুণ কমে যায় এবং রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায়। লাল আটা নিয়মিত খেলে ডায়াবেটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ওজন নিয়ন্ত্রণে বেশি উপকারী। তাই সামগ্রিকভাবে লাল আটা সাদা আটার তুলনায় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
পোস্ট সূচিপত্রঃ লাল আটা নাকি সাদা আটা কোনটা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
লাল আটা নাকি সাদা আটা কোনটা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষ রুটি, পরোটা বা লুচি খাওয়ার জন্য আটা ব্যবহার করে আসছে বহুদিন ধরে। কিন্তু আজকের বিশ্বে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ার সাথে সাথে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে, লাল আটা (Whole Wheat Atta) ভালো, নাকি সাদা আটা (Refined Wheat Flour/Maida) ভালো।
আরো পড়ুনঃ
দুটোরই আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে, আলাদা প্রক্রিয়াজাতকরণ আছে এবং শরীরে প্রভাবও ভিন্ন। তাই কোনটা খাবেন? কোনটা স্বাস্থ্যবান, ডায়াবেটিক বা ওজন কমাতে ইচ্ছুকদের জন্য ভালো? এসব প্রশ্নের বিজ্ঞানের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ এই আর্টিকেলে তুলে ধরা হলো।
আটা কী এবং কীভাবে তৈরি হয়
আটা মূলত গম পিষে তৈরি করা হয়। গমের তিনটি প্রধান অংশ থাকেঃ Bran (বাইরের খোসা), Germ (পুষ্টিকণা), Endosperm (স্টার্চি অংশ), লাল আটা তৈরিতে। এই তিনটি অংশই থাকে। তাই এটিকে Whole Wheat Flour বলা হয়।
সাদা আটা বা ময়দা তৈরিতে
Bran এবং Germ সরিয়ে শুধুমাত্র Endosperm রেখে আটা তৈরি করা হয়। তাই সাদা আটার রং হালকা হয়, নরম হয়, কিন্তু এতে পুষ্টি কম থাকে।
লাল আটা বনাম সাদা আটা, পুষ্টিমানের তুলনা
১) ফাইবারের পরিমাণঃ লাল আটা: ফাইবারে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সাদা আটা: ফাইবার প্রায় নেই। ফাইবার আমাদের হজম ভালো রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। উপসংহারঃ ফাইবারের জন্য লাল আটা অনেক ভালো।
২) ভিটামিন ও মিনারেলঃ লাল আটায় থাকে, ভিটামিন B1, B2, B3, Vitamin E, Iron, Magnesium, Zinc, Phosphorus। সাদা আটা তৈরির সময় এ পুষ্টি উপাদানগুলো নষ্ট হয়ে যায়।
পুষ্টিগুণে লাল আটা সাদা আটার চেয়ে শ্রেষ্ঠ
৩) গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI)ঃ GI যত কম হবে, রক্তে শর্করা তত ধীরে বাড়বে। লাল আটা GI: কম। সাদা আটা GI: বেশি এর মানে সাদা আটা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। উপসংহার: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে লাল আটা নিরাপদ।
৪) হজমের গতিঃ সাদা আটা খুব দ্রুত হজম হয় → রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায় → ক্ষুধা বেশি লাগে → ওজন বাড়ে। লাল আটা ধীরে হজম হয় → ক্ষুধা কম লাগে → ওজন কমাতে সাহায্য করে। উপসংহার: ওজন কমাতে লাল আটা ভালো।
৫) প্রক্রিয়াজাতকরণঃ লাল আটা: কম প্রক্রিয়াজাত, স্বাভাবিক গঠনে থাকে। সাদা আটা: খুব বেশি প্রসেস করা হয়, কখনও রাসায়নিক ব্লিচিংও করা হয়। উপসংহার: বেশি প্রসেসড খাবার শরীরের জন্য ভালো নয়। তাই লাল আটা নিরাপদ। লাল আটার স্বাস্থ্য উপকারিতা বিস্তারিত
১) হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ লাল আটার ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমায়। ২) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখেঃ Slow-digesting কার্বোহাইড্রেট থাকার কারণে রক্তে শর্করা বাড়ে না। ৩) ওজন কমাতে সহায়তাঃ ফাইবার পেট ভরিয়ে রাখে, অতিরিক্ত খিদে কমায়।
৪) হজম ক্ষমতা উন্নত করেঃ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং স্বাস্থ্যকর হজম বজায় রাখে। ৫) রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ Vitamin E ও জিঙ্ক ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী রাখে। ৬) ত্বক ও চুল ভালো রাখেঃ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন স্কিন ও চুলের জন্য উপকারী।
সাদা আটার (ময়দা) ক্ষতিকর দিক
১) ওজন দ্রুত বাড়ায়ঃ ক্যালোরি বেশি থাকে, ফাইবার নেই → ফ্যাট জমে। ২) রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায়ঃ ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ানোর ঝুঁকি থাকে। ৩) কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করতে পারেঃ ফাইবার না থাকায় হজম সমস্যা হয়। ৪) হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়ঃ অতিরিক্ত সাদা আটা খেলে চর্বি জমে। ৫) ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেঃ Blood sugar বাড়লে স্কিন dull হয়, pimples বেড়ে যায়।
রান্নায় লাল আটা বনাম সাদা আটা
বৈশিষ্ট্যঃ আটা, সাদা আটা, রং, বাদামি, সাদা, টেক্সচার, একটু মোটা, খুব মিহি, রুটি, শক্ত হয়, কিন্তু স্বাস্থ্যকর, নরম হয়, কিন্তু কম স্বাস্থ্যকর। স্বাদ, ন্যাচারাল, সাধারণ, পুষ্টিগুণ, অনেক বেশি. খুব কম স্বাদের দিক থেকে অনেকেই সাদা আটা পছন্দ করলেও স্বাস্থ্যের দিক থেকে লাল আটা শ্রেষ্ঠ।
কার জন্য লাল আটা অপরিহার্য
১) ডায়াবেটিস রোগীঃ GI কম থাকায় রক্তচিনি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ২) ওজন কমাতে চান এমন ব্যক্তিঃ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ৩) হৃদরোগ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিঃ ফাইবার কোলেস্টেরল কমায়। ৪) শিশুঃ পুষ্টিগুণ বেশি হওয়ায় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ৫) গর্ভবতী নারীঃ Iron, Zinc ও ভিটামিন সমৃদ্ধ।
সাদা আটা কখন একেবারে এড়ানো উচিত
ডায়াবেটিস, প্রিডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, থাইরয়েড, PCOS, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার, এই অবস্থায় সাদা আটা খাওয়া ক্ষতিকর।
প্রতিদিন কতটা লাল আটা খাওয়া উচিত
সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য, দিনে ২–৪টি রুটি যথেষ্ট। মোট আটা প্রয়োজন ৮০–১৫০ গ্রাম হতে পারে। ওজন কমাতে চাইলে রুটি আরও কমানো যেতে পারে।
বাজার থেকে লাল আটা কেনার সময় যা খেয়াল রাখবেন
Whole Wheat Atta লেখা আছে কি না। রং হালকা বাদামি। কোনো রাসায়নিক বা ব্লিচিং নেই। গন্ধ প্রাকৃতিক।
বাড়িতে লাল আটা দিয়ে স্বাস্থ্যকর রেসিপি
লাল আটার রুটি, মাল্টিগ্রেইন রুটি, লাল আটার খিচুড়ি, লাল আটার পায়েস, লাল আটার কুকিস। এগুলো সাদা আটার বিকল্প হিসেবে ভালো।আরো পড়ুনঃ
বিজ্ঞান যা বলে, গবেষণার ফলাফল
১) Whole Grain খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি ৩০% কমে। (American Heart Association)। ২) সাদা আটা ডায়াবেটিস ঝুঁকি বাড়ায়। (WHO research)।
৩) ফাইবারে উচ্চ খাদ্য ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। (Harvard Health Study)। তাই বিজ্ঞানও স্পষ্টভাবে বলে। লাল আটা স্বাস্থ্যকর, সাদা আটা ক্ষতিকর।
আমাদের শেষ কথাঃ লাল আটা নাকি সাদা আটা কোনটা খাওয়া জন্য ভালো
উপসংহারঃ তাহলে কোনটা ভালো। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ওজন কমানো, সবদিকে লাল আটা (Whole Wheat Atta) ১০০% সেরা। সাদা আটার রুটি নরম ও স্বাদে ভালো হতে পারে, কিন্তু এতে পুষ্টি কম এবং শরীরের ক্ষতি বেশি। দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবন চাইলে লাল আটা খাওয়াই উত্তম।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url