জাপানে যাওয়ার সহজ নিয়ম এবং কত টাকা লাগে

 জাপানে যাওয়ার সহজ নিয়ম এবং কত টাকা লাগে 

নিশ্চয়ই! এখানে জাপানে যাওয়ার নিয়ম এবং কত টাকা লাগে, এই বিষয়ের ওপর  একটি  সহজবোধ্য ও তথ্যসমৃদ্ধ আর্টিকেল দেওয়া হলো। জাপানে যেতে চাইলে প্রথমে পাসপোর্ট ও প্রয়োজন অনুযায়ী ভিসা (স্টুডেন্ট/ওয়ার্ক/ট্যুরিস্ট) করতে হয়। স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে প্রায় ৬–৮ লাখ টাকা, আর চাকরির ভিসায় ৩–৫ লাখ টাকার মতো খরচ হতে পারে। 



ট্যুরিস্ট ভিসায় সাধারণত ১–১.৫ লাখ টাকায় যাওয়া যায় (সময় ও ফ্লাইট ভেদে পরিবর্তন হতে পারে)। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করা ও প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকা।

পোস্ট সূচিপত্রঃ জাপানে যাওয়ার সহজ নিয়ম এবং কত টাকা লাগে 

জাপানে যাওয়ার সহজ নিয়ম এবং কত টাকা লাগে 
জাপানে যাওয়ার প্রধান উপায়গুলো
স্টুডেন্ট ভিসা (Student Visa)
স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসা (Specified Skilled Worker – SSW Visa)
ওয়ার্ক ভিসা (Work Visa)
ট্যুরিস্ট ভিসা (Tourist Visa)
স্টুডেন্ট ভিসায় জাপান যাওয়ার খরচ
SSW ভিসায় জাপান যাওয়ার খরচ
ওয়ার্ক ভিসায় খরচ
আমাদের চূড়ান্ত কথাঃ জাপানে যাওয়ার সহজ নিয়ম এবং কত টাকা লাগে 

জাপানে যাওয়ার নিয়ম এবং কত টাকা লাগে 

জাপান বিশ্বের অন্যতম উন্নত, প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ এবং কর্মসংস্থানের দিক থেকে জনপ্রিয় একটি দেশ। উচ্চ মানের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা, আধুনিক অবকাঠামো এবং বহুসংখ্যক চাকরির সুযোগের কারণে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর নানা দেশ থেকে মানুষ জাপানে যেতে আগ্রহী।

আরো পড়ুনঃ

 তবে জাপানে যাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম, ভিসা শর্ত, ভাষা দক্ষতা এবং আর্থিক প্রস্তুতি জানা জরুরি। আজকের এই বিস্তারিত গাইডে আলোচনা করা হলো, জাপানে কীভাবে যাওয়া যায়, কোন ভিসা ভালো, কী কী যোগ্যতা লাগে, এবং মোট কত টাকা খরচ হতে পারে।

জাপানে যাওয়ার প্রধান উপায়গুলো

জাপানে যাওয়ার প্রধানত ৪টি বৈধ উপায় রয়েছেঃ

স্টুডেন্ট ভিসা (Student Visa)

বাংলাদেশ থেকে জাপান যাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজ উপায় হলো স্টুডেন্ট ভিসা। কারণ, ভর্তি হওয়া তুলনামূলক সহজ। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম কাজ (28 ঘন্টা/সপ্তাহ) করা যায়। পরবর্তীতে ফুলটাইম চাকরি নিয়ে PR বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগ থাকে।

 স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসা (Specified Skilled Worker – SSW Visa)

জাপান বিভিন্ন সেক্টরে জনবল ঘাটতি পূরণ করতে SSW ভিসা দেয়। চাকরি পেলে সরাসরি কাজ করার সুযোগ এবং বেতন তুলনামূলক বেশি।

ওয়ার্ক ভিসা (Work Visa)

যে কোনো জাপানি কোম্পানি আপনাকে নিয়োগ দিলে সরাসরি ওয়ার্ক ভিসায় যেতে পারেন। তবে এটি পেতে দক্ষতা, ডিগ্রি এবং অভিজ্ঞতা জরুরি।

 ট্যুরিস্ট ভিসা (Tourist Visa)

সাময়িক ভ্রমণের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা। কাজ বা দীর্ঘমেয়াদি থাকার অনুমতি নেই। জাপান স্টুডেন্ট ভিসা সম্পূর্ণ গাইড। যোগ্যতাঃ জাপানের স্টুডেন্ট ভিসা পেতে আপনাকে নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।ন্যূনতম HSC পাশ (যত বেশি CGPA, তত ভালো)। GAP বেশি হলে ব্যাখ্যা লাগবে। জাপানি ভাষা JLPT N5/N4 (বেসিক) জানা ভালো। স্পনসর থাকতে হবে (বাবা/মা বা আর্থিক অভিভাবক)। ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলে ভর্তি। 


জাপানের ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলে সাধারণত ১–২ বছরের কোর্স করা হয়। ভর্তি হতে যা লাগেঃ পাসপোর্ট ছবি, অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট (সাধারণত ৮–১২ লাখ টাকা)। স্পনসরশিপ ডকুমেন্টপুলিশ ক্লিয়ারেন্স। মেডিকেল রিপোর্টঃ ভর্তি হওয়ার পর স্কুল CoE (Certificate of Eligibility) পাঠায়। CoE পাওয়ার পর জাপান এম্বাসিতে ভিসা ফাইল জমা দিতে হয়। পার্ট-টাইম কাজ, স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারে। বেতন সাধারণতঃ ঘণ্টাপ্রতি ৮০০–১২০০ ইয়েন। বাংলাদেশি টাকায় মাসে ৮০,000 – ১২০,000 টাকা (গড়ে) আয় করা যায়। জাপান SSW ভিসা — দক্ষ কর্মীর সুযোগ। SSW ভিসার সেক্টর। 

জাপানে জনবল সংকট রয়েছে ১৪টি সেক্টরে, যেমনঃ নার্সিং কেয়ার, রেস্টুরেন্ট, কৃষি, নির্মাণ, হোটেল, শিপ বিল্ডিং, ফুড প্রসেসিং ইত্যাদি। যা যা লাগেঃ JLPT N4 লেভেলের জাপানি ভাষা, নির্দিষ্ট সেক্টরের স্কিল টেস্ট, কোম্পানির চাকরির অফার, SSW ভিসায় খরচ। বাংলাদেশে এই ভিসা সরাসরি এম্বাসির মাধ্যমে হয়। খরচ তুলনামূলক কম (এজেন্ট ফাঁদ এড়িয়ে চলা উচিত)। জাপান ওয়ার্ক ভিসা  উচ্চ বেতনে চাকরির সুযোগ। যোগ্যতাঃ ব্যাচেলর/মাস্টার্স, অভিজ্ঞতাঃ

 জাপানি বা ইংরেজিতে দক্ষতা। জাপানি কোম্পানির জব অফার, সুবিধা, উচ্চ বেতন (২–৩ লাখ ইয়েন মাসিক)। পরিবারকে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ। PR পাওয়ার সম্ভাবনা, জাপানে যেতে মোট কত টাকা লাগে? (২০২৫ আপডেট)। জাপান যাওয়ার খরচ ভিসা ধরনের ওপর নির্ভর করে। নিচে আলাদাভাবে হিসাব দেওয়া হলো।

 স্টুডেন্ট ভিসায় জাপান যাওয়ার খরচ

ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল ফি, ৬ মাস কোর্স: ৪–৫ লাখ টাকা, ১ বছর কোর্স: ৮–১০ লাখ টাকা, টিকিট ও ভিসা।  ভিসা ফি: ১,০০০–২,০০০ টাকা, মেডিকেল: ৩,০০০–৫,০০০ টাকা, এয়ার টিকিট: ৫০,০০০–৭০,000 টাকা। আবাসন (হোস্টেল/শেয়ার রুম)। প্রথম ১–২ মাস অগ্রিম দিতে হয়: ৩০–৫০ হাজার টাকা। 

মোট আনুমানিক খরচ। ১২–১৫ লাখ টাকা (স্টুডেন্ট ভিসা)।  সহজভাবে বলতে গেলে, একজন শিক্ষার্থীর জাপান যেতে সাধারণত ১২–১৫ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়।

 SSW ভিসায় জাপান যাওয়ার খরচ

ভাষা কোর্স: ৫০,০০০ – ১ লাখ, স্কিল টেস্ট: ২০,০০০ – ৩০,০০০, ভিসা ফাইল ও ডকুমেন্ট: ১০,০০০ – ২০,০০০, মেডিকেল: ৫,০০০ – ৮,০০০,  টিকিট: ৫০,০০০ – ৭০,০০০, মোট আনুমানিক খরচ।  ১–২ লাখ টাকা (SSW ভিসা)। (এজেন্টের বাড়তি খরচ এড়ালে)।

 ওয়ার্ক ভিসায় খরচ

যেহেতু কোম্পানি অনেক খরচ বহন করে, তাই ব্যক্তিগত খরচ কম, ভিসা ও ডকুমেন্ট: ১৫,০০০ – ২৫,০০০, মেডিকেল: ৫,০০০ – ৮,০০০, টিকিট: অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানি দেয়। মোট আনুমানিক খরচ। ৬০ হাজার – ১ লাখ টাকা, জাপানে যাওয়ার আগে যে জিনিসগুলো অবশ্যই জানতে হবে। 

১. জাপানি ভাষা শিখতেই হবেঃ N5/N4 না জানলে স্টুডেন্ট লাইফে পার্ট-টাইম কাজ পেতে সমস্যা হয়। SSW বা ওয়ার্ক ভিসার ক্ষেত্রেও ভাষার দক্ষতা জরুরি।

২. ব্যাংক স্টেটমেন্ট সঠিক হতে হবেঃ স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে ৮–১২ লাখ টাকা ব্যাংকে থাকা ভালো। 

৩. এজেন্ট প্রতারণা থেকে সাবধানঃ বেশিরভাগ ভিসাই নিজে করা যায় বা কম খরচে করা যায়। অতিরিক্ত টাকা নিলে তা এড়িয়ে চলা উচিত।

৪. জাপানে জীবনযাত্রার খরচঃ রুম ভাড়া: ১৫–২৫ হাজার টাকা/মাস। খাবার: ১০–১৫ হাজার টাকা, পরিবহন: ৫–৮ হাজার টাকা। স্টুডেন্ট ভিসা হলে পার্ট-টাইম আয় দিয়ে খরচ সামলানো যায়।

আরো পড়ুনঃ

জাপানে যাওয়ার সুবিধাঃ  উন্নত জীবনযাত্রা, নিরাপদ দেশ, উচ্চ বেতনে পার্ট-টাইম/ফুলটাইম কাজ। প্রযুক্তিতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ। ভবিষ্যতে PR বা সিটিজেনশিপের সম্ভাবনা। জাপানে যাওয়ার অসুবিধা।  ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক, প্রাথমিক খরচ বেশি (স্টুডেন্ট ভিসা)। কাজের চাপ বেশি হতে পারে। আবহাওয়া এবং সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নেওয়া কঠিন।


 জাপানে যাওয়ার সহজ নিয়ম,  সারসংক্ষেপঃ ১. ভিসার ধরন ঠিক করুন (স্টুডেন্ট/SSW/ওয়ার্ক)। ২. ভাষা শিখুন (কমপক্ষে N5/N4। ৩. ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রস্তুত করুন। ৪. ডকুমেন্ট সংগ্রহ করুন। ৫. স্কুলে অ্যাপ্লাই → CoE → ভিসা। ৬. টিকিট কেটে জাপানে পৌঁছে পার্ট-টাইম বা ফুলটাইম কাজ শুরু করুন।

আমাদের চূড়ান্ত কথাঃ জাপানে যাওয়ার সহজ নিয়ম এবং কত টাকা লাগে 

জাপান বাংলাদেশিদের জন্য সুযোগে ভরা একটি দেশ। আপনি শিক্ষার্থী হোন বা দক্ষ কর্মী, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিলে খুব সহজে জাপানে যেতে পারবেন। স্টুডেন্ট ভিসায় কিছুটা বেশি খরচ হলেও ভবিষ্যতে চাকরি, ক্যারিয়ার, ও স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

 আর SSW বা ওয়ার্ক ভিসার মাধ্যমে কম খরচে সরাসরি জাপানে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সঠিক তথ্য জানলে, সঠিক ডকুমেন্ট প্রস্তুত করলে এবং ভাষার ওপর ভালো দখল রাখলে জাপান আপনার ক্যারিয়ার বদলে দিতে পারে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url