টনসিল ফোলা কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায়
টনসিল ফোলা কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায়
টনসিল ফোলা কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায় নিয়ে সহজ ভাষা আর্টিকেল দেওয়া হলো। টনসিল ফোলা কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায় পাঁচ লাইনে সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো: কুসুম গরম লবণ পানিতে গার্গল করলে টনসিলের ফোলা ও ব্যথা দ্রুত কমে। আদা-লেবু-মধু মিশ্রণ গরম পানির সঙ্গে খেলে গলা আরাম পায়।
গরম ভাপ নিলে গলার জমে থাকা কফ কমে ও প্রদাহ হ্রাস পায়। তুলসী বা কালোজিরা চা গরম অবস্থায় চুমুক দিয়ে খেলে ইনফেকশন কমাতে সহায়তা করে। প্রচুর পানি পান, ঠান্ডা খাবার এড়ানো এবং বিশ্রাম নেওয়া দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
টনসিল ফলা কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায়
টনসিল ফোলার সাধারণ কারণ
টনসিল ফোলা কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায়
১. নুন-পানির গার্গল (Warm Salt Water Gargle)
২. মধু ও গরম পানি
৩. আদা-চা (Ginger Tea)
৪. তুলসী পাতা
৫. লেবু-গরম পানি
৬. আপেল সিডার ভিনেগার
৭. গরম স্যুপ (Warm Soup)
৮. গোলমরিচ ও মধুর মিশ্রণ
৯. উষ্ণ বাষ্প নেওয়া (Steam Inhalation)
১০. পর্যাপ্ত পানি ও বিশ্রাম
আমাদের শেষ কথাঃ টনসিল ফলা কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায়
টনসিল ফোলা কমানোর ১০ টি ঘরোয়া উপায়
টনসিল মানবদেহের গলার পেছনে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু, যা আমাদের শরীরকে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। তবে অনেক সময় ঠান্ডা-কাশি, ইনফেকশন, ধুলোবালি বা অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবার খাওয়ার কারণে টনসিলে প্রদাহ বা ফোলা দেখা দেয়। এই অবস্থাকে টনসিলাইটিস বলা হয়। টনসিল ফুলে গেলে গিলতে কষ্ট, গলা ব্যথা, জ্বর, মাথাব্যথা, খাবার খেতে সমস্যা, এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আরো পড়ুনঃ
ডাক্তারের চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর হলেও ঘরোয়া কয়েকটি উপায় দ্রুত টনসিলের প্রদাহ কমাতে দারুন কাজ করে। আজকের এই আর্টিকেলে পাবেন, টনসিল ফোলার কারণ, উপসর্গ, এবং ১০টি প্রমাণিত ঘরোয়া উপায় যা ঘরে বসেই করতে পারবেন।
টনসিল ফোলার সাধারণ কারণ
টনসিল ফুলে যাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন: ভাইরাস ইনফেকশন (সাধারণ সর্দি, ফ্লু)। ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন, অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি, আইসক্রিম বা রেফ্রিজারেটরের খাবার খাওয়া, ধুলোবালি বা অ্যালার্জি, আবহাওয়াজনিত পরিবর্তন, ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যাওয়া,
রাত জেগে থাকা, কম পানি পান, টনসিল ফোলার সাধারণ উপসর্গ, গলা ব্যথা, গিলতে কষ্ট হওয়া, গলার ভেতর লালচে ভাব, জ্বর ও মাথা ব্যথা, মুখে দুর্গন্ধ, কানের পাশেও ব্যথা ছড়িয়ে যাওয়া, কাশি বা শুষ্ক গলা
টনসিল ফোলা কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায়
এগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতি এবং অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে দ্রুত আরাম দেয়। তবে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
১. নুন-পানির গার্গল (Warm Salt Water Gargle)
টনসিল ফোলার সবচেয়ে পরিচিত এবং কার্যকর ঘরোয়া উপায়। কিভাবে করবেনঃ এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে ১/২ চা চামচ নুন মিশিয়ে নিন। দিনে ৩–৪ বার গার্গল করুন। উপকারিতাঃ গলার প্রদাহ কমায়, ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
২. মধু ও গরম পানি
মধুর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ টনসিল ফুলে গেলে দারুণ কাজ করে। কিভাবে খাবেন:হালকা গরম পানিতে ১ চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। দিনে ২–৩ বার খেলে দ্রুত আরাম। উপকারঃ গলা নরম করে, ব্যথা কমায়, ইনফেকশন হ্রাস করে।
৩. আদা-চা (Ginger Tea)
আদা একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। প্রস্তুত প্রণালীঃ এক কাপ গরম পানিতে কিছুটা আদা কুঁচি দিন। একটু মধুও মেশাতে পারেন। উপকারিতাঃ গলার ভেতরের প্রদাহ কমায়। ইমিউনিটি বাড়ায়।
৪. তুলসী পাতা
তুলসী পাতা টনসিল ফোলা, সর্দি ও কাশি কমাতে অসাধারণ। কিভাবে ব্যবহার করবেনঃ ৬–৭টি তুলসী পাতা ১ গ্লাস পানিতে সিদ্ধ করুন। ঠাণ্ডা হলে মধু মিশিয়ে পান করুন। দিনে ২ বার। উপকারঃ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ কমায়। গলার আরাম বৃদ্ধি করে।
৫. লেবু-গরম পানি
লেবুর ভিটামিন সি ইমিউন সিস্টেম বাড়াতে সহায়ক। কীভাবে খাবেনঃ হালকা গরম পানিতে ১ চামচ লেবুর রস ও সামান্য মধু মিশিয়ে পান করুন। উপকারঃ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গলার প্রদাহ কমায়।
৬. আপেল সিডার ভিনেগার
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ টনসিলের ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে। ব্যবহারঃ ১ গ্লাস গরম পানিতে ১ চামচ ভিনেগার মিশিয়ে ধীরে ধীরে পান করুন। অথবা গার্গল করতে পারেন। উপকারঃ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। গলার ব্যথা কমায়।
৭. গরম স্যুপ (Warm Soup)
চিকেন স্যুপ বা ভেজিটেবল স্যুপ টনসিল ফোলা কমাতে দারুণ কাজ করে। কেন উপকারী হয়। গলা নরম রাখে, ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে, শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।
৮. গোলমরিচ ও মধুর মিশ্রণ
গোলমরিচে থাকে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ। কিভাবে খাবেনঃ এক চামচ মধুর মধ্যে একটু গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে খেতে পারেন। উপকারঃ গলার ব্যথা কমায়, কাশি হ্রাস করে।
৯. উষ্ণ বাষ্প নেওয়া (Steam Inhalation)
স্টিম নিতে পারলে গলার প্রদাহ কমে, শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। কিভাবে নেবেনঃ একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে তাতে মুখ ঝুঁকিয়ে স্টিম নিন। দিনে ১–২ বার, উপকারঃ গলা পরিষ্কার রাখে, শ্বাসনালী খুলে দেয়।
আরো পড়ুনঃ
১০. পর্যাপ্ত পানি ও বিশ্রাম
যতই ঘরোয়া প্রতিকার করুন, পানি ও বিশ্রাম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেন দরকার। শরীরের টক্সিন বের হতে সাহায্য করে। ইমিউন সিস্টেম দ্রুত কাজ করে। গলার শুষ্কতা কমে, টনসিল ফোলা দ্রুত কমাতে করণীয়। ঠান্ডা পানি, আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিংকস এড়িয়ে চলুন। বেশি কথা বলা কমিয়ে দিন। ধুলোবালি ও ধোঁয়া থেকে দূরে থাকুন। খুব গরম বা খুব ঠান্ডা খাবার খাওয়া বন্ধ করুন। সঠিক ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার নিন। কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
যদি ফোলা ৩–৫ দিনের বেশি থাকে, গলা খুব বেশি ব্যথা করে, জ্বর ১০১°F এর বেশি, মুখ খুলতে কষ্ট হয়।শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
আমাদের শেষ কথাঃ টনসিল ফলা কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায়
টনসিল ফোলা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অযত্ন করলে জটিল হতে পারে। ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো অনেক দ্রুত আরাম দেয়, প্রদাহ কমায় এবং শরীরকে সুস্থ হতে সাহায্য করে। তবে গুরুতর অবস্থায় ডাক্তার দেখানো জরুরি।
এই ১০টি ঘরোয়া উপায় ঠিকভাবে অনুসরণ করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ১–৩ দিনের মধ্যে টনসিল ফোলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url