গুম কি, মানুষকে কেন গুম করা হয়
গুম কি, মানুষকে কেন গুম করা হয়
নিচে “গুম কী, মানুষকে কেন গুম করা হয়” বিষয়ে একটি বিস্তারিত, তথ্যভিত্তিক ও সচেতনতা–মূলক আর্টিকেল দিলাম। এ ঘুমের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যক্তি পরিবার ও সমাজের উপর বিশেষ প্রভাব পড়ে।
গুম কী, মানুষকে কেন গুম করা হয়: একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ
সমাজে যখন কোনো ব্যক্তি হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যায়, কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না, পরিবার ও রাষ্ট্রও সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়—তখন সেটিকে সাধারণভাবে “গুম” বলা হয়। গুম শুধু একজন মানুষের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া নয়; এটি একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্য গভীর ট্র্যাজেডি। পৃথিবীর বহু দেশে বিভিন্ন সময়ে এই ভয়াবহ অপরাধ ঘটেছে এবং এখনও ঘটছে।
গুম কী, গুমের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা
গুম (Enforced Disappearance) বলতে বোঝায়, যখন কোনো ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাষ্ট্র বা রাষ্ট্র-সমর্থিত কোনো গোষ্ঠীর দ্বারা আটক বা অপহৃত হয় এবং পরে সেই ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা ভাগ্য সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয় না। অর্থাৎ: তাকে আটক করা হয়। তারপর রাষ্ট্র অস্বীকার করে। পরিবারের কাছে কোনো তথ্য দেওয়া হয় না। এইভাবে মানুষটি “আইনের বাইরে” চলে যায়।
জাতিসংঘ অনুযায়ী: গুম হলো এমন একটি অপরাধ যেখানে কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রের দ্বারা আটক হওয়ার পর তার অবস্থান গোপন করা হয় এবং আইনের সুরক্ষা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়।
গুম এবং অপহরণের মধ্যে পার্থক্য
বিষয়: অপহরণ, গুম, কে করে, অপরাধী চক্র, রাষ্ট্র বা রাষ্ট্র-সমর্থিত বাহিনী, তথ্য, মুক্তিপণ চাওয়া হয়, কিছুই জানানো হয় না। আইনি অবস্থান, অপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন
মানুষকে কেন গুম করা হয়
১. রাজনৈতিক কারণ: সবচেয়ে বড় কারণ হলো রাজনৈতিক বিরোধিতা। সরকারবিরোধী নেতা, সাংবাদিক, আন্দোলনকারী, বিরোধী দলের সদস্যতাদের কণ্ঠস্বর বন্ধ করতেই অনেক সময় গুম করা হয়।
২. ভয় সৃষ্টি করার জন্য: একজন মানুষ গুম হলে হাজার মানুষ ভয় পায়। এটি সমাজে আতঙ্ক ছড়ানোর একটি কৌশল। তুমি প্রতিবাদ করলে তোমার সঙ্গেও এমন হতে পারে।”
৩. তথ্য লুকানোর জন্য: কেউ যদি: দুর্নীতির প্রমাণ পায়। ক্ষমতাবান ব্যক্তির অপরাধ জানে তাহলে তাকে চুপ করাতে গুম করা হয়।
৪. বিচার এড়ানোর জন্য: আইন অনুযায়ী কাউকে গ্রেপ্তার করলে: আদালতে হাজির করতে হয়। আইনজীবী পায়। কিন্তু গুম করলে এসব কিছু করতে হয় না।
৫. গোপন নির্যাতনের সুযোগ: গুম করা ব্যক্তিকে:জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়। চাপ দেওয়া যায় আইনের বাইরে রেখে।
গুমের শিকার কারা হয়
গুমের শিকার হতে পারেন: রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্রনেতা, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সাধারণ নাগরিকও। কখনো কখনো ভুল মানুষও টার্গেট হয়।
গুমের প্রভাব পরিবারের ওপর
গুম শুধু একজনকে নয়, পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে। পরিবারে যা ঘটে: মা জানে না ছেলে বেঁচে আছে কি না। স্ত্রী জানে না স্বামী ফিরবে কি না।সন্তান জানে না বাবা কোথায়। এটি এক ধরনের আজীবনের মানসিক যন্ত্রণা।
আইন অনুযায়ী গুম কি অপরাধ
হ্যাঁ। গুম আন্তর্জাতিকভাবে একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার আইন অনুযায়ী: গুম = অপরাধ।
এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবেও গণ্য হতে পারে
বাংলাদেশ ও গুমের ঘটনা
বাংলাদেশেও গুম নিয়ে বহু অভিযোগ আছে। বিশেষ করে,
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময়
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে
অনেক পরিবার আজও জানে না তাদের প্রিয়জন কোথায়।
গুম হলে পরিবার কী করতে পারে
গুম হলে পরিবার সাধারণত থানায় জিডি করে, আদালতে যায়, মানবাধিকার সংগঠনের কাছে যায়, মিডিয়ার সাহায্য নেয় কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সত্য বের হয় না।
গুম সমাজের জন্য কতটা ভয়ংকর
গুম হলে সমাজে আইনের প্রতি বিশ্বাস কমে ভয় ছড়ায়। গণতন্ত্র দুর্বল হয়। যেখানে গুম হয়, সেখানে স্বাধীনতা থাকে না।
গুম বন্ধে কী দরকার
১. শক্তিশালী আইন
২. স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা
৩. মুক্ত গণমাধ্যম
৪. মানবাধিকার সংগঠনের স্বাধীনতা
৫. জনগণের সচেতনতা
গুম বনাম আইনের শাসন
যেখানে আইনের শাসন থাকে। সেখানে কাউকে গুম করা যায় না। সবাই আইনের অধীনে সমান।গুম মানে হলো: আইনের মৃত্যু”।
গুম কেন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ
কারণ এতে
একজন মানুষ নিখোঁজ হয়
পরিবার ধ্বংস হয়
সমাজ আতঙ্কে থাকে
ন্যায়বিচার হারায়
আমাদের শেষ কথা: গুম কি, মানুষকে কেন গুম করা হয়
গুম কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ, একটি মানবিক ট্র্যাজেডি। মানুষকে গুম করা হয় ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে, ভয় ছড়াতে এবং সত্য চাপা দিতে। কিন্তু ইতিহাস বলে—সত্য কখনো গুম হয় না। একদিন না একদিন তা প্রকাশ পায়।
আমাদের দায়িত্ব: গুমের বিরুদ্ধে কথা বলা। মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়ানো। ন্যায়বিচার দাবি করা। কারণ আজ অন্য কেউ গুম হচ্ছে, কাল সেটি যে কেউ হতে পারে।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url